ভোটের মুখে দুর্গাপুরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। কাঁকসা এলাকার মুচিপাড়ার এক বিতর্কিত মার্বেল ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মার্বেল ব্যবসায়ী হিরণ্ময় দাস। বর্তমানে তিনি বিজেপি কর্মী বলেই পরিচিত। সূত্রের দাবি, ২০২২ সালে দিল্লিতে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই মামলায় দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় তিন মাস তিহাড় জেলে বন্দি থাকতে হয় তাঁকে। পাশাপাশি, নিজের দোকানের এক মহিলা কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও জলাভূমি ভরাট ও সরকারি জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগে তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়, যখন ওই ব্যবসায়ীর উদ্যোগে গড়ে উঠতে চলা একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বুধবার দুপুরে হাজির হন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই।
এই উপস্থিতিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ভোটের আগে এমন এক বিতর্কিত ব্যক্তির অনুষ্ঠানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এদিকে, এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মেয়র পরিষদ সদস্য দীপঙ্কর লাহা ২০২১ সালে কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁ-র বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গ টেনে এনে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, একাধিক ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা চোর-ডাকাতদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করাই নাকি বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক আবহ যে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য।
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর। Durgapur

















